নোটিশ
আপনি কি ব্লগ কিংবা ফেসবুকে ইসলাম এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করতে আগ্রহী?
তাহলে আপনার লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের কাছে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজে মেসেজ দিন। ধন্যবাদ
Showing posts with label ইসলামি. Show all posts
Showing posts with label ইসলামি. Show all posts

Saturday, November 18, 2017

আমাকে সকল ব্যথা দাও আমি বরণ করবো, কিন্তু আমার উম্মাহকে ব্যথা দিওনা!

মোহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনের শেষ মূহুর্ত চলছে। 'হঠাৎ সেখানে একজন লোক এসে বললেন 'সালাম' আমি কি ভেতরে আসতে পারি। ফাতিমা (রদ্বি:) বললেন, দুঃখিত আমার পিতা খুবই অসুস্হ।
ফাতিমা (রদ্বি:) দরজা বন্ধ করে রাসূলের কাছে গেলেন। মুহাম্মদ (সাঃ) বললেন, কে সেই লোক? ফাতিমা বললেন, এই প্রথম আমি তাকে দেখেছি। আমি তাকে চিনি না। শুনো ফাতিমা, সে হচ্ছে আমাদের এই ছোট্ট জীবনের অবসানকারী ফেরেশতা আজরাইল। এটা শুনে ফাতিমার অবস্হা তখন ক্রন্দনরত বোমার মতো হয়ে গিয়েছে।
রাসূল (সাঃ) বললেন:
হে জিবরাঈল আমার উম্মতের কি হবে? আমার উম্মতের নাজাতের কি হবে?
জিবরাঈল (আঃ) বললেন, হে রাসুল!
আপনি চিন্তা করবেন না, আল্লাহ ওয়াদা করেছেন আপনার উম্মতের নাজাতের জন্যে।
মৃত্যুর ফেরেশতা ধীরে ধীরে রাসূলের কাছে এলেন জান কবজ করার জন্যে। মালাইকাত মউত আজরাইল আরো কাছে এসে ধীরে ধীরে রাসূলের জান কবজ করতে থাকলেন।
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জিব্রিলকে রাসূল বললেন ঘোঙানির সাথে, ওহ জিবরাঈল এটা কেমন বেদনা দায়ক জান কবজ করা?
ফাতিমা (রদ্বি:) তার চোখ বন্ধ করে ফেললেন, আলী (রাঃ) তার দিকে উপুড় হয়ে বসলেন, জিবরাঈল তার মুখটা উল্টা দিকে ফিরিয়ে নিলেন।
রাসুলল(সঃ) বললেন, হে জিবরাঈল তুমি মুখটা উল্টা দিকে ঘুরালে কেন, আমার প্রতি তুমি বিরক্ত ? জিবরাঈল বললেন, হে রাসূলুল্লাহ সাকারাতুল মউতের অবস্হায় আমি আপনাকে কিভাবে দেখে সহ্য করতে পারি। ভয়াবহ ব্যাথায় রাসূল ছোট্ট একটা গোঙানি দিলেন।
রাসূলুল্লাহ বললেন:
হে আল্লাহ সাকারাতুল মউত! (জান কবজের সময়) যতই ভয়াবহ হোক, সমস্যা নেই, আমাকে সকল ব্যথা দাও আমি বরণ করবো, কিন্তু আমার উম্মাহকে ব্যথা দিওনা। রাসূলের শরিরটা ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়ে আসতে লাগলো। তার পা, বুক কিছুই নড়ছে না এখন আর। রাসূলের চোখের পানির সাথে তার ঠোঁটটা কম্পিত ছিলো, তিনি কিছু বলবেন মনে হয়।
আলি (রদ্বি:) তার কানটা রাসূলের মুখের কাছে নিয়ে গেলো। রাসূল বললেন, নামাজ কায়েম করো এবং তোমাদের মাঝে থাকা দূর্বলদের যত্ন নাও।
রাসূলের ঘরের বাইরে চলছে কান্নার আওয়াজ, সাহাবীরা একজন আরেকজন কে জড়িয়ে ধরে উচ্চস্বরে কান্নারত। আলী (রাঃ) আবার তার কানটা রাসূলের মুখের কাছে ধরলো, রাসূল চোখ ভেজা অবস্হায় বলতে থাকলেন,-
ইয়া উম্মাতি, ইয়া উম্মাতি, ইয়া উম্মাতি,
রাসূল (সাঃ) উম্মাতি হিসেবে যদি এই লেখাটা করে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

(ফেসবুক) Md Kawsar Ahmed Rana থেকে সংগ্রহ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও এক বেদুইনের কথোপকথন!

এক বেদুইন প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে হাজির হয়ে বললেন,
হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমি আপনাকে কয়েকটি  প্রশ্ন করতে চাই। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বলো কি জানতে চাও। সে সময় প্রিয় নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে প্রখ্যাত সাহাবী খালিদ ইবনে ওয়ালিদ উপস্থিত ছিলেন। বেদুঈন লোকটি একটি করে প্রশ্ন করল আর আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রত্যেকটি প্রশ্নের জবাব দিলেন এই ভাবে....
১। হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমি অভাবমুক্ত হতে চাই।
উঃ তুমি অল্পে তুষ্ট থাকার চরিত্র অবলম্বন করো।

২। আমি সবচেয়ে বড় আলেম হতে চাই।
উঃ তুমি তাকওয়া অবলম্বন করো।

৩। আমি সম্মানিত হতে চাই।
উঃ তুমি মাখলুখের সামনে হাত পাতা বন্ধ করে দাও।

৪। আমি ভালো মানুষ হতে চাই।
উঃ তুমি মানুষের উপকার করো।

৫। আমি ন্যায়পরায়ন হতে চাই।
উঃ তুমি নিজের জন্য যা পছন্দ করো, অপরের জন্যও তা পছন্দ করার চরিত্র সৃষ্টি করো।

৬। আমি শক্তিশালী হতে চাই।
উঃ তুমি সর্বদা আল্লাহর উপর ভরসা করো।

৭। আমি আল্লাহর দরবারে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী হতে চাই।
উঃ তুমি বেশী বেশী আল্লাহর যিকির করো।

৮। আমি জীবিকায় স্বচ্ছলতা কামনা করি।
উঃ তুমি সবসময় অজু সহকারে থাকো।

৯। আমি যখনই দুয়া করবো তাই যেনো কবুল হয়।
উঃ তুমি হারাম খাওয়া বর্জন করো।

১০। আমি ইমানের পরিপূর্নতা কামনা করি।
উঃ তুমি তোমার চরিত্রকে ভালো করে নাও।

১১। কিয়ামতের দিন গুনাহ থেকে পবিত্র হয়ে আল্লাহর সাথে মিলিত হতে চাই।
উঃ তুমি তোমার গোসল ফরজ হওয়ার সাথে সাথে গোসল করে ফেলো।

১২। আমি আমার গুনাহ কমাতে চাই।
উঃ তুমি তোমার গুনাহের জন্য আল্লাহর সমীপে বেশী বেশী ক্ষমা প্রার্থনা করো।

১৩। আমি কিয়ামতের দিন নুরান্বিত হয়ে উঠতে চাই।
উঃ তুমি জুলুম করা ছেড়ে দাও।

১৪। আমি কামনা করি আল্লাহ আমার উপর রহমত বর্ষন করুন।
উঃ তুমি আল্লাহর বান্দাদের উপর দয়া করো।

১৫। আমি চাই আল্লাহ আমার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখুন।
উঃ তুমি মানুষের দোষ- ত্রুটি গোপন রাখো।

১৬। আমি লাঞ্ছনা থেকে রক্ষা পেতে চাই।
উঃ তুমি ব্যভিচার থেকে বেঁচে থাকো।

১৭। আমি আল্লাহ ও তার রাসুলের প্রিয় পাত্র হতে চাই।
উঃ যারা আল্লাহ ও তার রাসুলের প্রিয়জন, তুমি তাদেরকে প্রিয় বানিয়ে নাও।

১৮। আমি আল্লাহর অনুগত হতে চাই।
উঃ তুমি যথাযথভাবে ফরজ সমূহ আদায় করতে থাকো।

১৯। আমি ইহসানের অধিকারী হতে চাই।
উঃ এমনভাবে ইবাদত করো, যেন তুমি আল্লাহকে দেখছো, অথবা আল্লাহ তোমাকে দেখছেন।

২০। হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন জিনিস গুনাহ মাফ করিয়ে দেয়?
উঃ তোমার চোখের পানি, বিনয় ও রোগ।

২১। কোন জিনিষ জাহান্নামের আগুনকে ঠান্ডা করে দেয়?
উঃ তুমি দুনিয়ার বিপদ- আপদে ধৈর্য্য ধারন করো।

২২। কোন জিনিষ আল্লাহর রাগকে ঠান্ডা করে দেয়?
উঃ গোপনে দান করা আর আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা।

২৩। সবচেয়ে বড় মন্দ কাজ কি?
উঃ অসৎ চরিত্রতা ও কৃপণতা।

২৪। সবচেয়ে বড় সৎগুন কি?
উঃ উত্তম চরিত্র, বিনয় ও ধৈর্য্য।

২৫। আমি আল্লাহর রাগ থেকে রক্ষা পেতে চাই।
উঃ তুমি মানুষের উপর রাগ করা ছেড়ে দাও।

মহান আল্লাহ  তা’আলা আমাদেরকে আ’মাল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

Friday, November 17, 2017

ইসলামি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নাজায়েজ

ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকার ফতুয়া৷

বরাবর, প্রধান মুফতি সাহেব দামাত বারাকাতুহুম, মারকাযুল ফিকরিল ইসলামী বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা৷

বিষয় : অপসংস্কৃতি!
প্রশ্ন : ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শরীয়ত সম্মত কিনা? তথাকথিত শিল্পীগোষ্ঠী সমূহের মাধ্যমে ইসলামী সংগীত এর হুকুম কি? এবং সঙ্গীত শোনা জায়েজ আছে কিনা? এবং ইহা ভিডিও আকারে প্রচার করা যাবে কিনা?

উত্তর : এ কথা অনস্বীকার্য যে, ইসলামে বিনোদন নিষেধ নয়, তাই বলে কোনও অনৈসলামিক কাজকে ইসলামের লেবেল লাগিয়ে ইসলামী বিনোদন বলে চালিয়ে দেয়ার কোনো সুযোগ নেই, বর্তমান ইসলামী সাংস্কৃতি ও সংগীত অনুষ্ঠান নাম দিয়ে যে অনুষ্ঠান করা হয়, কোরআন-সুন্নাহ বিজ্ঞ আলেমগণ তা নাজায়েয হওয়ার ফতোয়াই দিয়ে থাকেন এবং এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করার অনুমতি দেন না৷ কেননা এসব অনুষ্ঠানে শরিয়ত পরিপন্থী অনেক কর্মকাণ্ড হয়ে থাকে৷ যেমন :

১. প্রচলিত ইসলামী সংগীতগুলো সুর, কণ্ঠ, আওয়াজের তরঙ্গ, ইকো, সাউন্ড সিস্টেম, লাইটিং ও ধোয়া নির্গমন ইত্যাদি সব বিষয় আধুনিক গানের সাথে সামাঞ্জস্য রাখে, বিধায় তা গানের অন্তর্ভুক্ত৷

২. আধুনিক গানের মতো এখানেও শ্রোতাদের মস্তিষ্কে এক ধরনের বিকৃতি আসে, যেমন গানের সুরে সুরে শরীর ও মাথা দুলানো, পশুর মত অস্বাভাবিক বিকট আওয়াজ, যেমন ঠিক ইত্যাদি বলা৷

৩. এটা খেল-তামাশা (لھو-لعب) এর অন্তর্ভুক্ত, হাসি, ঠাট্টা, তামাশা, মনমুগ্ধকর অঙ্গভঙ্গি করে শ্রোতাদের মন মাতানো ও তাদের আনন্দ উৎসব এবং মিলন মেলা হিসেবে এটি অনুষ্ঠিত হয়৷

৪. এর দ্বারা মানুষ ইলম, আমল, ইত্যাদি থেকে বিমুখ হয়, কেউ সংগীত বানানো, কন্ঠ সুন্দর করা, গাওয়া, ক্যাসেট বের করা ইত্যাদিতে মূল্যবান সময় ব্যয় করে৷ কেউ তা শুনে শুনে সময় নষ্ট করে৷

৫. এটা জায়েজ কাজ হিসেবে চালিয়ে দিয়ে নাজায়েজ কাজ করার সুযোগ নেয়া হয়, ছবি তোলা ও ভিডিও করা হয়, যা সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েজ৷
অর্থাৎ এটি অনেক নাজায়েজ কাজ এর উৎস!

এছাড়াও আরোও অনেক নাজায়েজ, ক্ষতিকর ও অনর্থক কর্মকাণ্ড পরিলক্ষিত হয়৷ অতএব বর্তমান প্রচলিত ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শরীয়ত সম্মত নয়, তাই এসব অনুষ্ঠান আয়োজন করে কোন শিল্পী গোষ্ঠীর মাধ্যমে সংগীত পরিবেশন করা ও শোনা এবং ভিডিও করে প্রচার করা জায়েজ নেই৷
প্রমান : সূরা লুকমান, আয়াত : ৬,
আহকামুল কুরআন, ৩/১৮৫, ৩/২৫৩ (এদারাতুল কুরআন প্রকাশনী),
রদ্দুল মুহতার : ৬/৩৪৯,
সহিহ বুখারী শরিফ : ৫৯৫০,
শরহে মুসলিম লিন নববী রহঃ : ২/১৯৯ (আশরাফিয়া প্রকাশনী),
কেন্দ্রীয় দারুল ইফতার ফতুয়া নং : ৯৯৮৫
ফতুয়া সত্যায়নে : হযরত মুফতি আরশাদ রহমানী দামাত বারাকাতুহুম ইবনে শায়খুল আরব ওয়াল আজম হযরত ওয়ালা শাহ ফকিহুল মিল্লাত মুফতি আব্দুর রহমান রহঃ, মুফতি আজম বাংলাদেশ৷ মহাপরিচালক কেন্দ্রীয় দারুল ইফতা, মারকাযুল ফিকরিল ইসলামী (ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার) বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা৷
হযরত মুফতি এনামুল হক কাসেমী, প্রধান মুফতি, কেন্দ্রীয় দারুল ইফতা, মারকাযুল ফিকরিল ইসলামী (ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার) বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা৷
হযরত মুফতি মুঈনুদ্দীন নানুপুরী, মুফতি, কেন্দ্রীয় দারুল ইফতা, মারকাযুল ফিকরিল ইসলামী (ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার) বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা৷


নাযেমে দারুল ইকামা : মারকাযুল ফিকরিল ইসলামী (ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার) বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা৷