নোটিশ
আপনি কি ব্লগ কিংবা ফেসবুকে ইসলাম এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করতে আগ্রহী?
তাহলে আপনার লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের কাছে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজে মেসেজ দিন। ধন্যবাদ
Showing posts with label অপসংস্কৃতি. Show all posts
Showing posts with label অপসংস্কৃতি. Show all posts

Sunday, December 31, 2017

খৃষ্টীয় নববর্ষ উদযাপন: শরিয়ত কি বলে!

উৎসব পালন জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে একটি সামগ্রিক ফিনমিনন। সুনির্দিষ্ট কোনো দিবসকে স্মরণীয় করে রাখার গভীর বাসনা থেকে, অথবা আনন্দ-উল্লাস প্রকাশ, কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করা ইত্যাদি থেকে জন্ম নেয় বর্ষান্তরে উৎসব পালনের ঘটনা।

আল্লাহ তাআলা মানুষের এ স্বভাবজাত বাসনা সম্পর্কে সুপরিজ্ঞাত। তাই তিনি তা প্রকাশের মার্জিত ও সম্মানজনক পদ্ধতি বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন। সৃষ্টিসংলগ্ন সামগ্রিক প্রজ্ঞাময়তা, পৃথিবীবক্ষে মানবপ্রজন্মের দায়দায়িত্ব, আল্লাহর ইবাদত ও দাসত্বের জিম্মাদারি ইত্যাদি বিবেচনায় রেখেই তিনি দিয়েছেন উৎসব পালনে সম্মানজনক বিধান। আনাস রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আগমন করলেন। তাদের ক্রীড়া-উল্লাসের ছিল দুটি দিবস। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,’এ দিবস দুটি কি? ‘ উত্তরে তারা বললেন,’ জাহেলী যুগে দিবস দুটি ক্রীড়া-উল্লাসে কাটাতাম।‘ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,’আল্লাহ তাআলা এ দিবস দুটির পরিবর্তে উত্তম দুটি দিবস তোমাদেরকে দিয়েছেন- ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতর। [ আবু দাউদ, আহমদ] 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর রা. কে বললেন,
’হে আবু বকর! প্রত্যেক জাতিরই উৎসব রয়েছে, আর এটা আমাদের উৎসব।‘[ বুখারি ]

মুসলিম উম্মাহর ঈদের সাথে আকিদা-বিশ্বাস ও জীবনাদর্শ সংমিশ্রিত, এবং তা বিজাতীয় সকল উৎসব থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন, আকার-প্রকৃতি, ধর্মসংলগ্নতা, জাতীয় অথবা পার্থিব যে ধরনেরই তা হোক না কেন।

পঁচিশে ডিসেম্বর থেকে পৃথিবীময় শুরু হয় খৃষ্টীয় উৎসব যা একত্রিশ ডিসেম্বর নববর্ষীয় মহোৎসবের মাধ্যমে শেষ হয়।

আর মুসলমানরা, সজ্ঞানে অথবা অবচেতনভাবে, আল্লাহ তাদেরকে যে সম্মান ও বৈশিষ্ট্য দিয়েছেন, তা বিশ্রুত হয়ে, এ উৎসবে অংশ নিয়ে থাকে।

বহু বিভিন্ন শরয়ি টেক্সট রয়েছে যা উম্মতে মুহাম্মদীর আলাদা বৈশিষ্ট্যের কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে এবং অন্যান্য জাতি থেকে তাদেরকে যে স্বতন্ত্রিকতা ও উন্নত অবস্থান নিয়ে চলমান থাকতে হবে সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেয়।

আর এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। কেননা এ উম্মত সর্বশেষ ঐশীবার্তাবহক জাতি। যাদের নবী হলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং পবিত্র গ্রন্থ হল হল মহাগ্রন্থ আল কুরআন।

আল্লাহ তাআলা এ উম্মতকে সর্বোচ্চ সৌন্দর্যে অভিষিক্ত করেছেন, যখন তিনি ঘোষণা দিয়েছেন: 
( তোমরা হলে সর্বোত্তম উম্মত, যাদেরকে বের করা হয়েছে মানুষের জন্য। তোমরা ভালো কাজের নির্দেশ দেবে ও মন্দ কাজ থেকে বারণ করবে, আর আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে। ) সূরা আল ইমরান: ১১০

সে হিসেবে এ উম্মত হচ্ছে সর্বোত্তম উম্মত। মায়াবিয়া ইবনে হায়দা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,’ 

তোমরা সত্তর উম্মতের সংখ্যা পূর্ণকারী। আর তোমরা এ সত্তর উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম এবং আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত। [ আহমদ, তিরমিযি, ইবনে মাযাহ ও হাকেম ] 

তিনি আরো বলেছেন,
’জান্নাতবাসীদের একশত বিশ কাতার হবে, তন্মধ্যে এ উম্মত হবে আশি কাতার।‘ [ তিরমিযি, ইবনে মাযাহ ও আহমদ ] 

আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 
’আমরা কিয়ামত দিবসে শেষ ও শুরু, আমরা সর্বাগ্রে জান্নাতে প্রবেশকারী, যদিও তাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে আমাদের পূর্বে, আর এসেছি তাদের পরে। তারা মতানৈক্য করেছে। তারা যে বিষয়ে মতানৈক্য করেছে আল্লাহ আমাদেরকে সে বিষয়ে সঠিক পথ দেখিয়েছেন। এটা সে দিবস যে দিবস সম্পর্কে তারা মতানৈক্য করেছে। আর আমাদেরকে আল্লাহ এ বিষয়ে হিদায়াত দিয়েছেন। অদ্যকার দিবস আমাদের। কালকেরটা ইহুদিদের এবং পরশু হল নাসারাদের।‘ [ বুখারি ও মুসলিম ]

ইবনে কাছীর র. বলেছেন,’ এই উম্মত উত্তম কাজে বিজয়ের ঝাণ্ডাবাহী। এ উম্মতের নবী হল মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যিনি আল্লাহর তাবৎ সৃষ্টির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, রাসূলদের মধ্যে সমধিক সম্মানিত, আল্লাহ তাকে পরিপূর্ণ শরিয়ত দিয়ে পাঠিয়েছেন, যা অন্য কোনো রাসূলকে দেন নি। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পথ ও পদ্ধতি অনুযায়ী অল্প আমল অন্যান্যদের অধিক আমল থেকেও উত্তম।‘ [ তাফসিরুল কুরআনিল আযীম, ২/৯৪ ]

শুদ্ধানুভূতির অভাব, ইমানী দুর্বলতা ইত্যাদির কারণে, বর্তমানযুগের কিছু মুসলমান যীশুখৃষ্টের জন্মতিথি ও নববর্ষের উৎসব ইত্যাদিতে অংশ নিয়ে থাকে, নাসারাদের বেশভূষা, তাদের ধর্মীয় চিহ্ন ইত্যাদি ব্যবহার করে থাকে, যেমন:

১. ডাক অথবা ইন্টারনেট যোগে শুভেচ্ছা বিনিময়।

২. নাসারাদের সাথে এসব উৎসব পালনে অংশ নেয়া, গির্জায়, হোটেলে, উন্মুক্ত মাঠে অথবা সেট্যালাইট চ্যানেলে।

৩. কৃস্টমাস ট্রি ক্রয়, শিশুদের কাছে প্রিয় বাবানোয়েলের পুতুল ক্রয়, ও ইত্যাদি গিফট হিসেবে নববর্ষের রাত্রিতে প্রদান।

৪. গান-বাজনা, নাচ, অশ্লীলতা, মদ্যপান, মোমবাতি জ্বালিয়ে তার আগুন নেবানো ইত্যাদি কর্মকাণ্ড যা উন্মুক্ত বা ঘরোয়াভাবে করা হয়।

এ উভয় উৎসব, অর্থাৎ যীশুখৃষ্টের জন্মতিথি এবং নববর্ষের উৎসব উভয়টাই উৎসব হিসেবে নেয়া মুসলমানেদের জন্য বৈধ নয়।

যীশুখৃষ্টের জন্মতিথি কুফরসর্বস্ব ধর্মীয় বৈশিষ্ট্যে অবগঠিত একটি দিবস, যেখানে ঈসা আ.কে ঐশিক গুণাবলিসর্বস্ব হওয়া, সৃষ্টিকর্তার মানুষের রূপ পরিগ্রহণ, ছেলে হিসেব আবির্ভাব, ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলে আত্মদান ইত্যাদি ভ্রান্ত বিশ্বাস বিশপ ও খৃষ্টীয় ধর্মগুরুদের কর্তৃক তুমুলভাবে প্রচার করা হয়।

আর দ্বিতীয় দিবসটি হল পার্থিবতা ও অশ্লীলতাসর্বস্ব, যাতে চর্চিত হয় বেলেল্লাপনা, বেহায়াপনা, পাশবিকতাপূর্ণ আচরণ, যা সর্বার্থে মনুষ্য উপযোগিতারহিত। মুমিনের কথা তো এখানে আসতেই পারে না।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়ে খুবই সচেতন ছিলেন। একটি ঘটনা থেকে এর সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। 

এক ব্যক্তি বুওয়ানা নামক জায়গায় উট যবেহ করার মান্নত মানল। সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল,’আমি বুওয়ানায় একটি উট যবেহ করার মান্নত করেছি। প্রত্যুত্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,’ সেখানে কি জাহেলীযুগের কোনো মূর্তি পূজা হত? তারা বললেন,’ না।‘ তিনি বললেন,’সেখানে কি তাদের কোনো উৎসব হত? ‘ তারা বললেন,’ না।‘ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,’তোমার মান্নত পুরন করো। আর জেনে রাখো, আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ হয় এমন মান্নত পূর্ণ করতে নেই এবং এমন মান্নতও পুরন করতে নেই মানুষ যার অধিকার রাখে না।‘ [ আবু দাউদ ]

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,’যে ব্যক্তি মুশরিকদের দেশে বাড়ি তৈরি করল, তাদের উৎসব-দিবস পালন করল এবং এ অবস্থায় সে মারা গেল, তবে তার হাশর-নশর তাদের সাথেই হবে। [ সুনানে বাইহাকি ৯/২৩৪ ]

এধরনের উৎসব পালন অবৈধ হওয়ার কারণ বাহ্যিক ধরন-ধারণে সাদৃশ্যগ্রহণ ও আন্তর বিশ্বাস এদুয়ের মাঝে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। 

শায়খুল ইসলাম ইবেন তাইমিয়া র. তার প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ( ইকতেযাউসিরাতিল মুসতাকিম মুখালাফাতু আসহাবিল জাহীম) - এ বলেন,’সিরাতুল মুসতাকীম হৃদয়ে অবস্থিত আন্তর বিষয়; যেমন আকিদা-বিশ্বাস, ইচ্ছা ইত্যাদি এবং বাহ্যিক বিষয়; যেমন কথা-কাজ, হতে পারে তা ইবাদত, হতে পারে তা খাবার, পোশাক, বিবাহ-শাদি, বাড়ি-ঘর, সম্মিলন ও বিচ্ছেদ, সফর-আরোহণ ইত্যাদি সংক্রান্ত। এইসব আন্তর ও বাহ্যিক বিষয়ের মাঝে সম্পর্ক রয়েছে। কেননা হৃদয়জগতে যে অনুভূতি আন্দোলিত হয় তা বিভিন্নভাবে বাহ্যদৃশ্যে রূপায়িত হতে বাধ্য, আবার বাহ্যিক কাজকর্মও হৃদয়ে তৎসংলগ্ন অনুভূতি জাগ্রত করে থাকে।

আর আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণ করেছেন হিকমতসহ, যা হল তাঁর সুন্নত ও আদর্শ, এবং তিনি তাঁর জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন সুনির্দিষ্ট পথ ও পদ্ধতি। এই হিকমতের একটি হল যে তিনি রাসূলের জন্য এমন কথা ও কাজ বিধিবদ্ধ করেছেন, যা অভিশপ্তদের পথ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। অতঃপর তিনি বাহ্যিক বেশভূষায় তাদের উল্টো করতে বলেছেন, যদিও অনেকের কাছে বাহ্যত এতে কোনো বিচ্যুতি মনে হয় না। তিনি এরূপ করেছেন কয়েকটি কারণে। কারণগুলোর একটি হল, বাহ্যিক বেশভূষায় সাদৃশ্যগ্রহণ, যে সাদৃশ্য গ্রহণ করল এবং যার সাদৃশ্য গ্রহণ করা হল, এদুজনের মাঝে ধরন-ধারণে একটা সম্পর্ক কায়েম করে দেয়, যা আমল-আখলাকে সম্মতিজ্ঞাপন পর্যন্ত নিয়ে যায়। এ বিষয়টি সহজেই অনুমেয়; যে ব্যক্তি আলেমদের পোশাক গ্রহণ করে সে নিজেকে আলেমদের সাথে সম্পৃক্ত বলে অনুভব করতে থাকে। আর যে ব্যক্তি সৈনিকদের পোশাক পরে তার হৃদয়ে সৈনিকসংলগ্ন ভাব জন্মে। তার মেজাজও সৈনিকতুল্য হয়ে যায়। যদি না এ পথে কোনো বাধা থাকে।‘ 

ইবনে তাইমিয়া র. আরো বলেন,’ এ হিকমতের মধ্যে আরেকটি হল, বাহ্যিক ক্ষেত্রে উল্টো করা ভিন্নতা ও বিচ্ছেদ সৃষ্টির কারণ হয়, যা করলে আল্লাহ নারাজ হন এবং যা কিছু পথহারা করে দেয় তা থেকে দূরে রাখে এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত ও আল্লাহর সন্তুষ্টিপ্রাপ্তদের প্রতি আগ্র্র্রহী করে। আর এর দ্বারা মুমিন ও আল্লাহর শত্রুদের মাঝে সম্পর্কচ্ছেদের যে বিধান আল্লাহ তাআলা রেখেছেন তা বাস্তবায়িত হয়। আর হৃদয় যত বেশি জাগ্রত থাকবে, প্রকৃত ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞানের অধিকারি হবে- এখানে প্রকৃত ইসলাম বোজাচ্ছি, সাধারণভাবে মুসলমানতুল্য বেশভূষা ও বিশ্বাস পালনের কথা বলছি না।- ততোই বাহ্যত ও বিশ্বাসগতভাবে ইহুদি নাসারাদের থেকে আলাদা থাকার অনুভূতি পূর্ণতা পাবে। আর তাদের আচার-অভ্যাস, যা অনেক মুসলমানের মধ্যেই পাওয়া যায় তা থেকে দূরে থাকার মানসিকতা তৈরি হবে। উল্লিখিত হিকমতের মধ্যে আরেকটি হল, প্রকাশ্য বেশভূষায় সাদৃশ্যগহণ বাহ্যত মিলমিলাপ ও সংমিশ্রণ-সম্মিলন ঘটানোর কারণ হয়। হেদায়াতপ্রাপ্ত মুমিন এবং অভিশপ্তদের মাঝে ভিন্নতা ও বৈশিষ্ট্যের দেয়াল উঠে যায়। ধর্মীয় বিষয়ে নয় বরং সাধারণ ক্ষেত্রে তাদের সাদৃশ্যগ্রহণের বিষয়টি যদি এরূপ হয়, তাহলে যেসব বিষয় বিজাতীদের কাফের হওয়ার কারণ সেসব বিষয়ের ক্ষেত্রে তাদের অনুকরণের পাপ-অপরাধ তাদের পাপের মাত্রানুযায়ী নির্ধারিত হবে। এই মূলনীতিটি সবাইকে অনুধাবন করতে হবে।‘ [ ১/৮০-৮২ ]

ইমানাদৃপ্ত স্পর্শকাতর মন ও তাওহীদী ভাবাদর্শে জাগ্রত হৃদয় ব্যতীত এসব অর্থ ও ভাব হৃদয়ঙ্গম করা সম্ভব নয়। আর যারা তথাকথিত ধার্মিক, যাদের ইমানী অনুভূতি কদর্যতায় আক্রান্ত, এসব কথা তাদের কাছে অর্থহীন। বিজাতির সাদৃশ্যগ্রহণ এদের কাছে আদৌ কোনো গুরুত্বের বিষয় নয়। তারা নির্দ্বিধায় অভিবাদন-শুভেচ্ছা বিনিময় করে যায়। তারা এসব উৎসব অনুষ্ঠানে অবলীলায় আমোদ স্ফূর্তি প্রকাশ করে যায়।

ইবনুল কাইয়েম র. আহকামু আহলিয্ যিম্মাহ ( যিম্মিদের বিধান) গ্রন্থে বলেন,’ বিজাতিদের নিজস্ব কুফুরি নিদর্শনকেন্দ্রিক কোনো উপলক্ষ্যে শুভেচ্ছা বিনিময়, যেমন তাদের ধর্মীয় উৎসব বা রোজার সময় বলা,’শুভ উৎসব ‘ অথবা ’এ উৎসবে আপনি আনন্দ-আপ্লুত হোন, ‘ ইত্যাদি। এ ধরনের শুভেচ্ছাবার্তা প্রদানকারী যদি কুফর থেকে পবিত্র থাকে তাহলে তা হারাম বলে বিবেচিত হবে। এটা ক্রসচিহ্ন সিজদাকারীকে শুভেচ্ছা প্রদানের মতোই। এটা বরং আল্লাহর কাছে অধিক পাপ বলে পরিগণিত। এটা আল্লাহর কাছে মদ্যপান, মানবহত্যা, যিনা ইত্যাদির চেয়েও অধিক ঘৃণিত। দীন-ধর্মে যাদের কোনো অংশ নেই তারাই এসব কর্মে লিপ্ত হয়ে থাকে। তারা কত ঘৃণার কাজ করছে তারা নিজেরাই জানে না। যে ব্যক্তি কোনো পাপীকে পাপকর্ম সম্পাদনের পর শুভেচ্ছা জানাল, অথবা কোনো বিদআতপন্থীকে বিদআতকর্ম সম্পাদনের পর শুভেচ্ছা জানাল সে আল্লাহর ঘৃণা ও রোষের উপযোগী হল। [ আহকামু আহলিয্ যিম্মা:২০৫-২০৬ ]

সমাপ্ত
লেখক : ড. আহমদ বিন আব্দুর রহমান আল কাজী
অনুবাদক : আলী হাসান তৈয়ব

Saturday, December 30, 2017

থার্টিফাস্ট নাইট ও ইসলাম

মহান আল্লাহ আমাদের সুখ-শান্তির জন্য পৃথিবীকে অসংখ্য নিয়ামত দ্বারা সু-সজ্জিত করেছেন। তাঁর অন্যতম একটি নিয়ামত হচ্ছে দিন-রাত ও মাসের মাধ্যমে বৎসরের হিসাব। আমাদের উচিত এর শুকর বা কৃতজ্ঞতা আদায় করা এবং সময়ের কদর করা।
বর্তমানে আমরা ইংরেজী বর্ষবরণে “থার্টিফাস্ট নাইটের” নামে বিধর্মীদের অপসংস্কৃতির অনুরসণ করছি। অথচ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম ইরশাদ করে:
“যে, ব্যক্তি কোন জাতির সাদৃশ্যতা অবলম্বন করে সে তাদেরই অন্তর্ভূক্ত।
(আবূ দাঊদ-৪০৩১)

দিন-রাতের পরিবর্তনে আমাদের মৃত্যু ঘনিয়ে আসছে, আনন্দ-উল্লাস নয় পরকালের হিসাবের প্রস্তুতির প্রয়োজন। দিন-রাত এবং কবর প্রতিদিন আমাদের সতর্ক করছে। অথচ, আমরা উদাসিনতার মধ্যে সময় কাটিয়ে দিচ্ছি।

থার্টিফাস্ট নাইট উদযাপন হারাম-
(এক) এটি বিজাতী ও বিধর্মীদের একটি উৎসব, এতে মুসলমানদের অংশ গ্রহণ হারাম।
[আবূ দাঊদ ৪০৩১]

(দুই) আতশবাজী করে মানুষকে কষ্ট দেওয়া এবং অর্থের অপচয় করা হারাম।
[বানী ইসরাইল-২৭, আহযাব-৫৮ দ্রষ্টব্য]

(তিন) এতে তরুন-তরুনীরা নির্লজ্জভাবে রাস্তায় ঘুরা-ফেরা করে, আড্ডা দেয়, অবৈধ, অশ্লীল সম্পর্ক গড়ার এক সুযোগ সৃষ্টি হয় যা সম্পূর্ণ হারাম।
[সূরা নূর-৩০-৩১ দ্রষ্টব্য]

(চার) এতে মদ্যপান, বেহায়াপনা ও উলঙ্গপনার এবং অর্ধালোঙ্গ নারীর নাচ-গান শোনার এক গর্হিত গুনাহের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। যা সম্পূর্ণ হারাম।
[সূরা নিসা-২৩, লোকমান-৬ দ্রষ্টব্য]

পাপ আল্লাহর আযাব ডেকে আনে-
এগুলো সবই পাপ।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়া-সাল্লাম ইরশাদ করেন:
“যখন কোন জাতির মাঝে প্রকাশ্যে পাপ সংগঠিত হয় এবং ঐ জাতির লোকেরা তা বন্ধ করার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বন্ধ করে না। তখন আল্লাহর আযাব তাদের (ভাল-মন্দ) সকলকে গ্রেফতার করে নেয়।
[মুসনাদে আহমাদ-১৯১২৮]

তাই আসুন!
নিজেরা জিম্মাদার হয়ে উম্মতকে পাপ থেকে বাঁচানোর জন্য মেহনত শুরু করি।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাওফীক্ব দান করুন। আমীন

Friday, December 1, 2017

১২ই রবিউল আউয়াল- জশনে জুলূসে ঈদ এ মিলাদুন্নবী যৌক্তিক না অযৌক্তিক?

১২ই রবিউল আউয়াল- জশনে জুলূসে ঈদ এ মিলাদুন্নবী যৌক্তিক না অযৌক্তিক?


● মাহমুদ মুজিব
কাল ১২ই রবিউল আওয়াল। রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এর জন্মদিন হিসেবে পরিচিত। এ দিনে কেউ কেউ ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করেন আবার কেউ কেউ জশনে জুলূসে ঈদে মিলাদুন্নবী করেন। মোটকথা  বিভিন্ন জন বিভিন্ন ভাবে এই দিনে রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম বার্ষিকী পালন করে থাকেন।" ঈদে মিলাদুন্নবী " অর্থ নবীর জন্ম উপলক্ষে খুশী বা নবীর জন্ম দিবসের উৎসব।

আর "জশনে জুলূসে ঈদে মিলাদুন্নবী" অর্থ জন্ম উৎসব উপলক্ষে বর্ণাঢ্য মিছিল করা। 
১২ ই রবিউল আওয়াল রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্ম বার্ষিকী পালন এবং এসব উৎসব ও অনুষ্ঠান করা হবে কি-না এ ব্যাপারে নিম্নোক্ত কয়েকটি বিষয় সামনে রাখা যেতে পারে।

১- সপ্তম হিজরী শতকের আগে তার কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়না। আর বাংলাদেশে তার আনুস্ঠানিকতা শুরু হয় ১৯৭৪ সালে। সুতরাং সচেতন মমানুষ মাত্রই বুঝতে সক্ষম হবে - ঈদ এ মিলাদুন্নবী এটা নবআবিস্কার। ইসালামের ইতিহাসে তার কোন অস্তিত্ব নেই।  সুতরাং নবআবিস্কৃত বিষয়কে শরীয়তের পরিভাষায় "বিদআত" বলা হয়ে থাকে। যা ইসলাম সম্মত পরিভাষা "সুন্নাত" এর বিপরীত শব্দ,  পরিপন্থী ও সাংঘর্ষিকও বটে।

২-  রবিউল আওয়াল মাসে সোমবার সোবহে সাদেকের সময় রাসূলের জন্ম এ ব্যাপারে কারো দ্বীমত নেই। তবে ১২ ই রবিউল আওয়াল রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্ম তারিখ নির্দিষ্ট করা বলা যায়না। এ ব্যপারে  রয়েছে ইখতেলাফ।  কেউ ৮ ই রবিউল আওয়াল সোমবার। আবার কেউ ৯ই রবিউল আওয়াল সোমবার।  আবার কেউ ১২ই রবিউল আওয়াল সোমবারের কথা বলেন। 

৩- ১২ই রবিউল আওয়াল রাসূলের এর জন্মতারিখ কি-না বিষয়ট বিতর্কিত ও অনিশ্চিত। মুহাক্কিক আলেমদের মতে ৮ই রবিউল আওয়াল রাসূলের জন্মদিন। অতএব মুহাক্কিক আলেমের মতানুসারে ১২ই রবিউল আওয়াল জন্মদিবস করা হলে তা হবে বাস্তবতাবিরোধী এবং অনিশ্চিত বিষয়ে কোন কিছু করা।

৪- ১২ ই রবিউল আউয়াল রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্মতারিখ কি-না এ নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও এ তারিখটি যে রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের তারিখ তা নিয়ে কোন মতবিরোধ নেই।  অতএব যে তারিখটি রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওফাতের নিশ্চিত তারিখ,  সে তারিখ মুসলিম উম্মাহর জন্যে এক বেদনাময় স্মৃতি বিজড়িত তারিখ হতে পারে, আনন্দ বা উৎসবের নয়। তাহলে এদিনে উৎসব করা হবে অসঙ্গত ও অনুচিত।

৫- যদি মেনেও নেয়া হয় যে, ১২ ই রবিউল আওয়াল রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মতারিখ,  তবুও ইসলামে জমদিবস বা মৃত্যদিবস; জন্ম বার্ষিকী,  তাঁর মৃত্যু বার্ষিকী পালনের কোন নীতি রাখা হয়নি। তা মানুষের সৃষ্টি। স্বয়ং সাহাবায়েকেরামও রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মদিবস বা মৃত্যুদিবস পালন করেননি। যদি সাহাবায়েকেরাম রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মদিবস পালন করতেন তাহলে রাসূলের জন্মতারিখ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ হওয়ার কোন অবকাশ ছিল না।

৬- রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সীরাত মোবারক নিয়ে আলোচনা করা এবং এরুপ আলোচনার মজলিস অত্যন্ত বরকতময়। রাসূল (সাঃ) এর প্রতি মহব্বত এবং এশক নিয়ে এরুপ মজলিস না করে অন্য যে কোন দিন ও যে কোন মাসে করা হলে একদিকে যেমন রহমত ও বরকত লাভ করা যাবে, অপরদিকে অসঙ্গতি ও রছমের অনুসরন করা থেকেও নিস্কৃতি পাওয়া যাবে।

৭- রাসূল সাল্লাহি আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সীরাত সারা বছর আলোচনার বিষয়, কুরআন সুন্নাহে বর্ণিত সমুদয় আদর্শই রাসূলের সীরাত।  অতএব সারা বৎসরই রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত নিয়ে আলোচনা বা ওয়াজ মাহফিলের ব্যবস্হা হওয়া অপরিহার্য ও প্রয়োজনীয়। শুধু রবিউল আউয়াল মাস নির্ভর কিছু করা এটা রছম ও বিদআত। এ রছমও ভেঙ্গে দিয়ে সারা বছর জুড়ে সীরাত নিয়ে আলোচনার মাহফিল করতে হবে।

৮- রাসূলের ইশক ও মুহাব্বাত ঈমানের অপরিহার্য অংশ। রাসূলের অনুসরণ প্রত্যেক মুমীনেরর ওপর আবশ্যিক।  রাসূলকে দিন কেন্দ্রিক স্বরন না করে পুরো জীবন জুড়ে রাসূলকে আদর্শ হিসেবে মেনে নিন তাতেই ব্যাক্তিকে রাসূলের প্রকৃত আশেক বলা হবে।

৯- যারা ১২ ই রবিউল আউয়ালকে বিভিন্নভাবে প্রমাণ করতে চেয়েছেন, তার মর্যাদা ও গুরুত্ব বুঝিয়েছেন, জান্নাতের গেরেন্টির হাদীস শুনিয়ে সাধারন মানুষকে উৎসাহিত ও বিভ্রান্ত করছেন তারা নিশ্চয় সাধারন মানুষকে গোমরাহ করছেন। প্রতারিত করছেন।  এ ক্ষেত্রে কিছু হাদীসের বর্ণনা উপস্হাপনা করা হয় যার ব্যাপারে হাদীস বিশারদগন বলে থাকেন তা ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও মিথ্যে বর্ণনা।

১০- কুরআন হাদীসের বর্ণনায় দুটি ঈদের কথা পাওয়া যায়। তৃতীয় কোন ঈদের কথা নেই। 
১১- মিলাদুন্নবীকে বিশ্বাস করতে হবে আর সীরাতুন্নবীকে মানতে হবে,  নিজের জীবনে তার বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে মিলাদুন্নবী আর ঈদ এ মিলাদুন্নবী এক বিষয় নয়।

► লেখক পরিচিতি-
● সহকারী সম্পাদক - মাসিক আল হেরা।
● সেক্রেটারি জেনারেল, অরাজনৈতিক ও সেবামূলক সংগঠন "মশাল"।
● শিক্ষক - জামেয়া দারুল মা'আরিফ আল-ইসলামিয়া, চট্টগ্রাম।

Friday, November 17, 2017

ইসলামি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নাজায়েজ

ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকার ফতুয়া৷

বরাবর, প্রধান মুফতি সাহেব দামাত বারাকাতুহুম, মারকাযুল ফিকরিল ইসলামী বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা৷

বিষয় : অপসংস্কৃতি!
প্রশ্ন : ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শরীয়ত সম্মত কিনা? তথাকথিত শিল্পীগোষ্ঠী সমূহের মাধ্যমে ইসলামী সংগীত এর হুকুম কি? এবং সঙ্গীত শোনা জায়েজ আছে কিনা? এবং ইহা ভিডিও আকারে প্রচার করা যাবে কিনা?

উত্তর : এ কথা অনস্বীকার্য যে, ইসলামে বিনোদন নিষেধ নয়, তাই বলে কোনও অনৈসলামিক কাজকে ইসলামের লেবেল লাগিয়ে ইসলামী বিনোদন বলে চালিয়ে দেয়ার কোনো সুযোগ নেই, বর্তমান ইসলামী সাংস্কৃতি ও সংগীত অনুষ্ঠান নাম দিয়ে যে অনুষ্ঠান করা হয়, কোরআন-সুন্নাহ বিজ্ঞ আলেমগণ তা নাজায়েয হওয়ার ফতোয়াই দিয়ে থাকেন এবং এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করার অনুমতি দেন না৷ কেননা এসব অনুষ্ঠানে শরিয়ত পরিপন্থী অনেক কর্মকাণ্ড হয়ে থাকে৷ যেমন :

১. প্রচলিত ইসলামী সংগীতগুলো সুর, কণ্ঠ, আওয়াজের তরঙ্গ, ইকো, সাউন্ড সিস্টেম, লাইটিং ও ধোয়া নির্গমন ইত্যাদি সব বিষয় আধুনিক গানের সাথে সামাঞ্জস্য রাখে, বিধায় তা গানের অন্তর্ভুক্ত৷

২. আধুনিক গানের মতো এখানেও শ্রোতাদের মস্তিষ্কে এক ধরনের বিকৃতি আসে, যেমন গানের সুরে সুরে শরীর ও মাথা দুলানো, পশুর মত অস্বাভাবিক বিকট আওয়াজ, যেমন ঠিক ইত্যাদি বলা৷

৩. এটা খেল-তামাশা (لھو-لعب) এর অন্তর্ভুক্ত, হাসি, ঠাট্টা, তামাশা, মনমুগ্ধকর অঙ্গভঙ্গি করে শ্রোতাদের মন মাতানো ও তাদের আনন্দ উৎসব এবং মিলন মেলা হিসেবে এটি অনুষ্ঠিত হয়৷

৪. এর দ্বারা মানুষ ইলম, আমল, ইত্যাদি থেকে বিমুখ হয়, কেউ সংগীত বানানো, কন্ঠ সুন্দর করা, গাওয়া, ক্যাসেট বের করা ইত্যাদিতে মূল্যবান সময় ব্যয় করে৷ কেউ তা শুনে শুনে সময় নষ্ট করে৷

৫. এটা জায়েজ কাজ হিসেবে চালিয়ে দিয়ে নাজায়েজ কাজ করার সুযোগ নেয়া হয়, ছবি তোলা ও ভিডিও করা হয়, যা সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েজ৷
অর্থাৎ এটি অনেক নাজায়েজ কাজ এর উৎস!

এছাড়াও আরোও অনেক নাজায়েজ, ক্ষতিকর ও অনর্থক কর্মকাণ্ড পরিলক্ষিত হয়৷ অতএব বর্তমান প্রচলিত ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শরীয়ত সম্মত নয়, তাই এসব অনুষ্ঠান আয়োজন করে কোন শিল্পী গোষ্ঠীর মাধ্যমে সংগীত পরিবেশন করা ও শোনা এবং ভিডিও করে প্রচার করা জায়েজ নেই৷
প্রমান : সূরা লুকমান, আয়াত : ৬,
আহকামুল কুরআন, ৩/১৮৫, ৩/২৫৩ (এদারাতুল কুরআন প্রকাশনী),
রদ্দুল মুহতার : ৬/৩৪৯,
সহিহ বুখারী শরিফ : ৫৯৫০,
শরহে মুসলিম লিন নববী রহঃ : ২/১৯৯ (আশরাফিয়া প্রকাশনী),
কেন্দ্রীয় দারুল ইফতার ফতুয়া নং : ৯৯৮৫
ফতুয়া সত্যায়নে : হযরত মুফতি আরশাদ রহমানী দামাত বারাকাতুহুম ইবনে শায়খুল আরব ওয়াল আজম হযরত ওয়ালা শাহ ফকিহুল মিল্লাত মুফতি আব্দুর রহমান রহঃ, মুফতি আজম বাংলাদেশ৷ মহাপরিচালক কেন্দ্রীয় দারুল ইফতা, মারকাযুল ফিকরিল ইসলামী (ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার) বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা৷
হযরত মুফতি এনামুল হক কাসেমী, প্রধান মুফতি, কেন্দ্রীয় দারুল ইফতা, মারকাযুল ফিকরিল ইসলামী (ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার) বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা৷
হযরত মুফতি মুঈনুদ্দীন নানুপুরী, মুফতি, কেন্দ্রীয় দারুল ইফতা, মারকাযুল ফিকরিল ইসলামী (ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার) বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা৷


নাযেমে দারুল ইকামা : মারকাযুল ফিকরিল ইসলামী (ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার) বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা৷