নোটিশ
আপনি কি ব্লগ কিংবা ফেসবুকে ইসলাম এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করতে আগ্রহী?
তাহলে আপনার লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের কাছে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজে মেসেজ দিন। ধন্যবাদ
Showing posts with label শিক্ষনীয় ঘটনা. Show all posts
Showing posts with label শিক্ষনীয় ঘটনা. Show all posts

Thursday, November 23, 2017

একটি শিক্ষণীয় (বাস্তব) ঘটনা!

মালেক বিন আনাস রহি:
এক যুবক পার্শ্ববর্তী গ্রামের এক যুবতীর প্রশংসা শুনে তার প্রতি মুগ্ধ হয়ে না দেখেই বিয়ে করেন। স্ত্রীকে বাসর ঘরেই প্রথম দেখেন। কিন্তু স্ত্রীর ঘোমটা খুলতেই তিনি মনোবেদনায় বিষণ্ণ হয়ে পড়েন। তিনি দেখেন যে, তার পরম কাঙ্ক্ষিত স্ত্রী রূপসী নয়, বরং কালো। তাই তিনি স্ত্রীর কক্ষ ত্যাগ করেন। মনের দুঃখে তিনি স্ত্রীর কাছে আর ফিরে আসেন না।

যুবকটির নাম আমের বিন আনাস। অবশেষে স্ত্রী নিজেই তার কাছে যান।
প্রিয় স্বামীকে বলেনঃ "ওহে প্রাণের স্বামী! তুমি যা অপছন্দ করছ, হয়তো তাতেই তোমার কল্যাণ নিহিত আছে, এসো…।

অতঃপর আমের স্ত্রীর কাছে যান এবং বাসর রাত যাপন করেন। কিন্তু দিনের বেলায় স্ত্রীর অসুন্দর চেহারার প্রতি তাকাতেই তার মন খারাপ হয়ে যায়। মনের দুঃখে আমের এবার বাড়ি থেকেই চলে যান। চলে যান বহু দূরে অন্য শহরে।

কিন্তু বাসর রাতেই যে তার স্ত্রী গর্ভধারণ করেছেন, এ খবর তার জানা ছিল না। আমের ভিনদেশে বিশ বছর কাটান। বিশ বছর পর তিনি নিজ শহরে ফিরে আসেন। এসেই প্রথমে নিজ বাড়ির কাছের সেই প্রিয় মসজিদে ঢোকেন।

ঢুকেই দেখেন এক সুদর্শন যুবক পবিত্র কুরআনের মর্মস্পর্শী দরস পেশ করছেন, আর বিশাল মসজিদ ভরা মুসল্লিগণ পরম আকর্ষণে তা হৃদয়ে গেঁথে নিচ্ছে। তাঁর হৃদয়গ্রাহী দরস শুনে আমেরের অন্তর বিগলিত হয়ে যায়।

আমের লোকদের কাছে এই গুণী মুফাসসিরের নাম জানতে চাইলে লোকেরা বলেন, ইনি ইমাম মালেক। আমের আবার জানতে চান ইনি কার ছেলে? লোকেরা বলেন, উনি এই এলাকারই আমের বিন আনাস নামের এক ব্যক্তির ছেলে। বিশ বছর আগে তিনি বাড়ি থেকে চলে গেছেন আর ফিরে আসেননি।

আবেগে উত্তাল আমের ইমাম মালেকের কাছে এসে বললেন, আমাকে আপনার বাড়িতে নিয়ে চলুন। তবে আমি আপনার মায়ের অনুমতি ছাড়া আপনার ঘরে প্রবেশ করবো না। আমি আপনার ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকবো, আপনি ভেতরে গিয়ে আপনার মাকে বলবেন, দরজায় একজন লোক দাঁড়িয়ে আছেন, তিনি বলছেনঃ

"তুমি যা অপছন্দ করছ, হয়তো তাতেই তোমার কল্যাণ নিহিত আছে।"
এ কথা শুনেই ইমাম মালেকের মা বললেন,
"হে মালেক! দৌঁড়ে যাও, সম্মানের সাথে উনাকে ভেতরে নিয়ে এসো, তিনিই তোমার বাবা। দীর্ঘদিন দূর দেশে থাকার পর তি নি ফিরে এসেছেন।"

সুবহানাল্লাহ!
এই হলেন সেই গুণবতী মা, যিনি ইমাম মালেকের মতো সন্তান গড়ে তোলার কারিগর....।
সুতরাং রূপবতী নারীতে নয় গুণবতী ও সৎ চরিত্রবান নেককার নারীদের দ্বারাই  এমন সন্তানের জন্ম নেয়।

Saturday, November 18, 2017

হযরত ইউনুছ ‘আলাইহিচ্ছালামের একটি ঘটনা!

হযরত ইউনুছ (আঃ)-কে সমুদ্রের মাছেরা যখন সমুদ্রের পাড়ে বমি করে দিয়ে রেখে গেল, তখন তাঁর শরীরের চামড়া এতটা নাদুস্সুদুস এবং পাতলা হয়ে গিয়েছিল যে, যেমন একটি নবজন্ম পাখির বাচ্চার চামড়া হয়, যার কারণে তিনি রুদ্রের তাপ সহ্য করতে পারছিলেন না, খূবই দুর্বল ছিলেন এবং অনেকক্ষন বেহুশ অবস্থায় পড়ে ছিলেন
অতঃপর আল্লাহ তাআলার নির্দেশে কদুর গাছ বা আংগুরের গাছ চলে আসে তাঁকে ছাঁয়া দেয় এবং উক্ত কদু বা আংগুর গাছের পাতা দ্বারা তারঁ ক্ষুদা এবং পিপাসা নিবারণ করেন অল্প দিনের মধ্যেই তিনি কিছুটা সতেজ ও সুস্থ হয়ে উঠেন এবং চলা-ফেরা করতে লাগেন
অতঃপর আল্লাহ তাআলার নির্দেশে কিছু উঁইপোকা এসে কদু বা আংগুর গাছের গোড়া কেটে ফেলল, যার কারণে গাছের লতা-পাতা সুকিয়ে গেল এবং ইউনুছ (আঃ)-এর ছায়া পাওয়াও বন্ধ হয়ে গেল এবং পুনরায় সূর্যর তাপ তাঁর অসহ্য হয়ে উঠলো, তিঁনি আল্লাহ্ কাছে দুআ করলেন যে, ইয়া আল্লাহ! এই মরুপ্রান্তরে পিপাসা নিবারণ করার এবং ছায়া পাওয়ার একটাই উপায় ছিল তাও ধ্বংস হয়ে গেল, ইয়া আল্লাহ! আমি খূব দূঃখি, ইয়া আল্লাহ! তুমিই একমাত্র আমার সাহায্যকারী, আমায় সাহায্য কর?
আল্লাহ্ পক্ষ থেকে ইউনুছ (আঃ)-এর প্রতি ওয়াহী বা বার্তা এলো যে, হে ইউনুছ! যে কদু বা আংগুর গাছের লতা-পাতা তোমার পিপাসা মেটাত ছায়া দিত তা ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তুমি এত দূঃখি; যার কারিকরও তুমি নও অথচ, চল্লিশ হাজার মানুষ যারা আমার সৃষ্ট, যাদেরকে আমিই বানিয়েছি, যখন তারা তাদের উপর আযাব বা শাস্তি আসতে দেখে তখন তারা আমার দিকে ফিরে এবং তাওবা বা ক্ষমাপ্রার্থনা করে আমার দেখানো রাস্তা অবলম্বন করে অতঃপর আমি তাদের তাওবাহ কবূল করে তাদের উপর থেকে আযাব বা শাস্তি উঠিয়ে নেই, আমি কি ভাবে আমার সৃষ্ট মানুষকে যাদের সৃষ্টিকর্তাই আমি ধ্বংস করতে পারি?
হযরত ইউনুছ (আঃ) সাথে সাথে আল্লাহ্ দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করে সিজদায় পড়ে গেলেন, মহান রব্বুল আলামীন তাঁর তাওবাহ কবূল করে নিলেন, এমতবস্থায় তাঁর উম্মতগণ তাঁকে খুঁজতে খুঁজতে তাঁর কাছে পৌঁছে গেলো হযরত ইউনুছ (আঃ)-এর উম্মতগনই একমাত্র উম্মত যারা আল্লাহ তাআলাআযাব বা শাস্তির নমুনা দেখেই তাওবাহ করেছে, আল্লাহ তাআলা তা কবূল করে নিয়েছেন, সে সাথে তারা আল্লাহ তাআলার নির্দেশিত সঠিক রাস্তায় চলে এসেছে
ইউনুছ (আঃ) এক যুগ পর্যন্ত নিজের উম্মতের সাথে থেকে তাদেরকে হিদায়াতমূল ওয়ায,নাছীহাত করতে থাকেন এবং পরিশেষে তিঁনি তারঁ কওমের মাঝেই ইন্তিকাল করেন
প্রকৃত তাওবাহ বড় থেকে বড় অবাধ্য বান্দার মাঝেও পরিবর্তন এনে দেয়, আর মহান রব! যিনি তাঁর বান্দাদেরকে নিশ্চিত নিজের মা-বাবার চেয়েও অনেক অনে………………. গুন বেশি ভালবাসেন
মহান রব! আমাদেরকে প্রকৃত মনে তাওবাহ করার তাওফীক্ব দান করুন-আমীন
নিজে পড়ুন এবং শেয়ার করে আপনার বন্ধুদেরও পড়া বা দেখার সুযোগ করে দিন